বাড়ির কাছে আরশিনগর কবিতার রচনাধর্মী বড়ো প্রশ্ন উত্তর | লালন ফকির | Barir Kache Arshi Nagar Long Question Answer pdf download
বাড়ির কাছে আরশিনগর কবিতার রচনাধর্মী বড়ো প্রশ্ন উত্তর | লালন ফকির | Barir Kache Arshi Nagar Long Question Answer pdf download
একাদশ শ্রেণি 'সাহিত্যচর্চা' (বাংলা বই) গ্রন্থের নতুন পাঠক্রমে লালন ফকিরের একটি গান পাঠ্য। এই অংশ থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে। এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ রচনাধর্মী বড়ো প্রশ্নের নমুনা উত্তর এখানে দেওয়া হলো।
(toc)যে যে প্রশ্ন রয়েছে
[১] “আমি বাঞ্ছা করি দেখব তারি”—বক্তা কাকে দেখতে চান? কীভাবে তাঁর দর্শন পাওয়া যাবে?
[উ]
রচনা পরিচয়—‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’ একটি অতি পরিচিত বাউল গান। বাউল সাধক লালনের অতি পরিচিত এই গানটিতে ‘পড়শি’ তথা ‘মনের মানুষ’এর স্বরূপ বর্ণিত হয়েছে।
বক্তা কাকে দেখতে চান—বাউল সাধক লালন আলোচ্য গানে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর উপাস্য ‘পড়শি’কে দেখতে চান।
দর্শন পাওয়ার উপায়—বাউল হলো লোকায়ত সাধনা। গান হলো এই সাধনার মূল অঙ্গ। বাউলরা বলেন, “মনের মাঝে মনের মানুষ কর অন্বেষণ”। এই মনের মানুষ হলো ‘পড়শি’। এই পড়শি থাকেন আরশিনগর। তিনি অধরা, ইচ্ছা করলেই তাঁকে পাওয়া যায় না। তাঁকে দেখাও যায় না। লালন বলেন—
বক্তা কাকে দেখতে চান—বাউল সাধক লালন আলোচ্য গানে জানিয়েছেন, তিনি তাঁর উপাস্য ‘পড়শি’কে দেখতে চান।
দর্শন পাওয়ার উপায়—বাউল হলো লোকায়ত সাধনা। গান হলো এই সাধনার মূল অঙ্গ। বাউলরা বলেন, “মনের মাঝে মনের মানুষ কর অন্বেষণ”। এই মনের মানুষ হলো ‘পড়শি’। এই পড়শি থাকেন আরশিনগর। তিনি অধরা, ইচ্ছা করলেই তাঁকে পাওয়া যায় না। তাঁকে দেখাও যায় না। লালন বলেন—
‘ও তার হস্ত-পদ-স্কন্ধ-মাথা নাই-রে।
ও সে ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর
আবার ক্ষণেক ভাসে নীরে।‘
লালন দেখেছেন, ‘পড়শি’ ও তাঁর মধ্যে ‘অগাধ পানি’। তাই তাঁর কাছে যাওয়া সহজ নয়। কিন্তু তাঁর কাছে যাওয়ার বাসনা নিরন্তর বাড়তে থাকে। তাই সাধক সেই সাধনার ধনকে পাওয়ার জন্যে বলেন—“বাঞ্ছা করি দেখব তারি”।
[২] ‘পড়শি যদি আমায় ছুঁত/ আমার যম-যাতনা যেত দূরে”—পড়শি কে? যম-যাতনা কথার অর্থ কী? কীভাবে যম-যাতনা দূরে যেত বলে কবি মনে করেন?
[উ]
পড়শি—সাধক লালন ফকিরের কাছে পড়শি হলেন তাঁর উপাস্য ঈশ্বর বা ‘মনের মানুষ’। ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’ গানটিতে এই মনের মানুষের স্বরূপ বর্ণিত হয়েছে।
যম-যাতনা—‘যম-যাতনা’ কথার অর্থ হলো মৃত্য-যন্ত্রনা বা মৃত্যু-ভয়।
যম-যাতনা কীভাবে দূর হতো—লালনের গানের মধ্যে আত্মনিবেদনের সুর অত্যন্ত প্রবল। আলোচ্য গানটিতে লালন তাঁর অধরা ‘সাধনার ধন’কে অন্বেষণ করেছেন। এই পড়শি হলেন মুক্তি পথের অগ্রদূত। তিনি আরশিনগরে থাকেন। অথচ লালন তাঁকে দেখতে পাননা—
যম-যাতনা—‘যম-যাতনা’ কথার অর্থ হলো মৃত্য-যন্ত্রনা বা মৃত্যু-ভয়।
যম-যাতনা কীভাবে দূর হতো—লালনের গানের মধ্যে আত্মনিবেদনের সুর অত্যন্ত প্রবল। আলোচ্য গানটিতে লালন তাঁর অধরা ‘সাধনার ধন’কে অন্বেষণ করেছেন। এই পড়শি হলেন মুক্তি পথের অগ্রদূত। তিনি আরশিনগরে থাকেন। অথচ লালন তাঁকে দেখতে পাননা—
পড়শি ও কবির মধ্যে রয়েছে দূরত্বের সম্পর্ক, মাঝে রয়েছে ‘অগাধ পানি’। অর্থাৎ যাকে পাওয়া যায় না তাঁকে পাওয়ার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষা এখানে পরিস্ফুটিত হয়েছে।
পড়শির কৃপা ছাড়া লালনের জীবন বৃথা। পড়শি কখনো শূন্যে অবস্থান করেন আবার কখনো ভাসেন জলে। অর্থাৎ দিব্য চোখে ছাড়া তাঁকে উপলব্ধি করা যায় না।
লালন বিশ্বাস করেন পড়শি তাঁকে যদি একবার স্পর্শ করেন তাহলে তাঁর ‘যম-যাতনা’ দূরে চলে যেত। পড়শির উপলব্ধি হলো চরম উপলব্ধি। তখন যম-যাতনা অর্থাৎ মৃত্যু-ভয় লালনকে স্পর্শ করতে পারবে না। পড়শির অপার মহিমায় লালন মুগ্ধ হবেন।
[৩] “তবু লক্ষ যোজন ফাঁক রে”—কার সঙ্গে এই ব্যবধান? একত্রে থেকেও এই ব্যবধানের তাৎপর্য কী?
[উ]
প্রথম অংশ—সাধক কবি লালন রচিত ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’ শীর্ষক গানে লালন জানিয়েছেন, পড়শি তথা মনের মানুষের সঙ্গে তাঁর ব্যবধান রয়েছে।
দ্বিতীয় অংশ—বাউল সাধকেরা মনের মানুষের সন্ধানে সাধনা করে থাকেন। সেই অধরা মনের মানুষ সাধকের কাছেই থাকেন। কিন্তু সাধক তাঁকে চিনতে পারেন না। লালন বলেছেন, তাঁর পড়শি আরশিনগরে বাস করেন। তা সত্ত্বেও ‘একদিনও না দেখিলাম তারে’।
লালনের সঙ্গে পড়শির গভীর সম্পর্ক। কিন্তু লালনের আক্ষেপ পড়শির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। কেননা উভয়ের মধ্য রয়েছে ‘অগাধ পানি’। ফলে মনের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও লালন পড়শির কাছে পৌঁছাতে পারেননা—“আমি কেমনে সে গাঁয় যাই রে”।
লালন যে পড়শির কথা আমাদের শুনিয়েছেন তিনি নিরাকার। তাঁর হাত-পা-মাথা কিছুই নেই। নিজেকে না জানলে এই পড়শিকে ভালোভাবে জানা যায় না।
আমাদের আলোচ্য গানটিতে পড়শির সঙ্গে মিলনের জন্য সাধকের মনের অস্থিরতা প্রকাশ পেয়েছে। তাই লালন বলেছেন, পড়শির কাছেই তিনি রয়েছেন অথচ পড়শিকে তিনি চিনতে পারেন নি। তাই উভয়ের মধ্যে রয়েছে লক্ষ যোজন ফাঁক। এই বক্তব্যের মধ্যে সাধকের অস্থির হৃদয় যন্ত্রণা প্রকাশিত হয়েছে।
[উ]
দ্বিতীয় অংশ—বাউল সাধকেরা মনের মানুষের সন্ধানে সাধনা করে থাকেন। সেই অধরা মনের মানুষ সাধকের কাছেই থাকেন। কিন্তু সাধক তাঁকে চিনতে পারেন না। লালন বলেছেন, তাঁর পড়শি আরশিনগরে বাস করেন। তা সত্ত্বেও ‘একদিনও না দেখিলাম তারে’।
লালনের সঙ্গে পড়শির গভীর সম্পর্ক। কিন্তু লালনের আক্ষেপ পড়শির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়নি। কেননা উভয়ের মধ্য রয়েছে ‘অগাধ পানি’। ফলে মনের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও লালন পড়শির কাছে পৌঁছাতে পারেননা—“আমি কেমনে সে গাঁয় যাই রে”।
লালন যে পড়শির কথা আমাদের শুনিয়েছেন তিনি নিরাকার। তাঁর হাত-পা-মাথা কিছুই নেই। নিজেকে না জানলে এই পড়শিকে ভালোভাবে জানা যায় না।
আমাদের আলোচ্য গানটিতে পড়শির সঙ্গে মিলনের জন্য সাধকের মনের অস্থিরতা প্রকাশ পেয়েছে। তাই লালন বলেছেন, পড়শির কাছেই তিনি রয়েছেন অথচ পড়শিকে তিনি চিনতে পারেন নি। তাই উভয়ের মধ্যে রয়েছে লক্ষ যোজন ফাঁক। এই বক্তব্যের মধ্যে সাধকের অস্থির হৃদয় যন্ত্রণা প্রকাশিত হয়েছে।
[৪] “বাড়ির কাছে আড়শিনগর/ ও এক পড়শি বসত করে”—আরশিনগর কোথায় অবস্থিত? কাকে কবি পড়শি বলে উল্লেখ করেছেন? পড়শির সঙ্গে লালনের সম্পর্ক কেমন?
প্রথম অংশ—সাধক কবি লালন ফকির ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’ নামাঙ্কিত গানে যে আরশিনগরের কথা বলেছেন তা কোনো পরিচিত বা প্রচলিত নগর নয়। আরশিনগর হলো—সাধকের মনোভূমি।
দ্বিতীয় অংশ—লালনের ধর্মমত অতি সরল ও উদার। পড়শি শব্দটি আপাত বিচারে প্রতিবেশিকে নির্দেশ করছে। কিন্তু গভীর অর্থে পড়শি বলতে কবি ‘মনের মানুষ’, ‘কাছে মানুষ’, ‘সাঁই’ ইত্যাদি অর্থের দিকে আলোকপাত করেছেন।
তৃতীয় অংশ—সাধক লালন তাঁর বিভিন্ন গানে মনের মানুষের সন্ধান করেছেন। সেই মনের মানুষ বা পড়শি তাঁর কাছেই থাকেন। অথচ তাঁর অজ্ঞতার কারণে তাঁকে চিনতে পারেন না। তাই লালন বলেছেন, “আমি একদিনও না দেখিলাম তারে”।
লালন ও পড়শির মধ্যে রয়েছে ‘অগাধ পানি’র দূরত্ব। তাই তাঁকে কাছে পান না। পড়শি যেখানে থাকেন সেখানে যাওয়াও সম্ভব হয় না। সাধক ইচ্ছা করলেই তাঁর সাধনার ধনকে কাছে পান না। সেজন্য লালন আক্ষেপ করে বলেছেন—“আমি কেমনে সে গাঁয় যাই রে”।
প্রকৃতপক্ষে লালন মনে করেন, পড়শি আমাদের মনের মধ্যেই অবস্থান করেন। আমরা তাঁকে উপলব্ধি করতে পারি না বলেই তাঁর আর সাধকের মাঝে ‘লক্ষ যোজন ফাঁক’। এভাবে লালন ও পড়শির মধ্যে এক অদ্ভুত গভীর সম্পর্ক রচিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অংশ—লালনের ধর্মমত অতি সরল ও উদার। পড়শি শব্দটি আপাত বিচারে প্রতিবেশিকে নির্দেশ করছে। কিন্তু গভীর অর্থে পড়শি বলতে কবি ‘মনের মানুষ’, ‘কাছে মানুষ’, ‘সাঁই’ ইত্যাদি অর্থের দিকে আলোকপাত করেছেন।
তৃতীয় অংশ—সাধক লালন তাঁর বিভিন্ন গানে মনের মানুষের সন্ধান করেছেন। সেই মনের মানুষ বা পড়শি তাঁর কাছেই থাকেন। অথচ তাঁর অজ্ঞতার কারণে তাঁকে চিনতে পারেন না। তাই লালন বলেছেন, “আমি একদিনও না দেখিলাম তারে”।
লালন ও পড়শির মধ্যে রয়েছে ‘অগাধ পানি’র দূরত্ব। তাই তাঁকে কাছে পান না। পড়শি যেখানে থাকেন সেখানে যাওয়াও সম্ভব হয় না। সাধক ইচ্ছা করলেই তাঁর সাধনার ধনকে কাছে পান না। সেজন্য লালন আক্ষেপ করে বলেছেন—“আমি কেমনে সে গাঁয় যাই রে”।
প্রকৃতপক্ষে লালন মনে করেন, পড়শি আমাদের মনের মধ্যেই অবস্থান করেন। আমরা তাঁকে উপলব্ধি করতে পারি না বলেই তাঁর আর সাধকের মাঝে ‘লক্ষ যোজন ফাঁক’। এভাবে লালন ও পড়শির মধ্যে এক অদ্ভুত গভীর সম্পর্ক রচিত হয়েছে।
-------------------------------------------
--------------------------------------------
আমাদের টেলিগ্রাম ও ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হোন
👇👇👇👇