Join Telegram Join Facebook বাংলা রচনা
সাহিত্যের ইতিহাস সাজেশান Question-Paper
WBCS স্কুল নোটস ইতিহাস

একাদশ শ্রেণির ইতিহাস | ৬ষ্ঠ অধ্যায় সমাজের ঘটনাপ্রবাহ | রচনাধর্মী | Class XI History | 6th Chapter | Samajer Ghatana Prabaha

✅ Join Our Telegram Channel ✅






প্রিয় একাদশের শিক্ষার্থীরা,

আজকে তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করবো একাদশ শ্রেণির ইতিহাস ষষ্ঠ অধ্যায় || সমাজের ঘটনাপ্রবাহ  || ১ ও ২ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর | Class XI History Question and Answer  | 11th History Examinationএকাদশ শ্রেণির ৬ষ্ঠ অধ্যায় |   ৮ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর  | একাদশ শ্রেণির ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর পেয়ে যাবে এগুলি তোমাদের ফাইনাল পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।



যা যা আছে(toc)








রাজপুত জাতির উৎপত্তি এবং ভারতের জাতীয় জীবনে তাদের অবদান উল্লেখ কর।



ভূমিকা

আদি মধ্যে যুগে ভারতে জাতি হিসেবে রাজপুতদের উত্থান সম্পর্কে পন্ডিতদের মধ্য যতেষ্ট বিতর্ক রয়েছে । এই জাতির অভিমত গুলি নিম্নে আলোচনা করা হলো —


১. বানভট্টের মত

বানভট্ট বলেছেন যে, উচ্চ বংশীয় ক্ষত্রিয় সন্তানরাই 'রাজপুত 'নামে পরিচিত। রাজপুতরা ছিলেন সূর্য বা চন্দ্রের বংশজাত ।

২. অগ্নিকুল তত্ত্ব

বৈশিষ্ট্য মুনি মাউন্ট আবু পাহাড়ে চোদ্দ দিন ধরে যজ্ঞ করে বীরের প্রার্থনা করেছিলেন । রাজপুত জাতির উৎপত্তি সংক্রান্ত এই মতবাদ অগ্নিকুল তও্ব নামে পরিচিত ।

৩. বিদেশি জাতির বংশধর

শক,হুন,কুষান প্রভুতি বিদেশী যোদ্ধা জাতির মানুষ ভারতে প্রবেশ করে ক্রমে ক্রমে ভারতীয় জনসমাজের মিশে যায়। ড.ভান্ডারকর, উইলিয়াম প্রমুখ মনে করেন যে, বিদেশি জাতিগুলি থেকেই ভারতে রাজপুত জাতির উদ্ভব হয়েছে ।

৪. আর্য জাতি তত্ত্ব


পন্ডিত ওঝার এই অভিমত অনেক নৃতত্ববিদ পরীক্ষার ভিত্তিতে সমর্থন করেন । মেবারের রাজপুত রানারা নিজেদের রামচন্দ্রের বংশধর বলে দাবি করতেন।

৫. মিশ্র জাতি

ড. ভিনসেন্ট স্মিথ রাজপুর শব্দের অর্থ বিশ্লেষণ করে রাজপুতরা কোনো কোনো অঞ্চলের ক্ষত্রিয় সামন্ত বা জায়গীরদারদের অবৈধ সন্তানদের রাজপুত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি রাজপুতদের একটি ' মিশ্র জাতি ' বলে উল্লেখ করেছেন ।










প্রাচীন মিশরের নেফারতিতি ও ক্লিওপেট্রার কার্যাবলীর পরিচয় দাও ?



নেফারতিতি

চতুর্থ আমেনহোটেপ ছিলেন আজ থেকে প্রায় ৩৩০০ বছর আগের একজন মিশরীয় ফ্যারাও। তাঁর আমলে মিশরে ধর্মীয় ক্ষেত্রে বহু দেবতার আরাধোনার প্রচলন ছিল । তখন আমুন ছিলেন মিশরের প্রধান দেবতা । মিশরের দুর্যোগ সামাল দিয়ে যিনি সর্বাধিক কৃতিত্বের পরিচয় দেন তিনি হলেন আখেনাটেনের পত্নী নেফারতিতি ।

পূর্ব পরিচয়

নেফারতিতি ছিলেন আখেনাটেনের অন্যতম পত্নী। তাঁর আগের পরিচয় সম্পর্কে বেশি কিছু বলা যায় না। নেফারতিতি ছিলেন টেয়া ও তৃতীয় আমেনহোটেপের কন্যা। কেউ কেউ তাঁকে মিশরের ফ্যারাও আর এর কন্যা বলেও মনে করেন । নেফারতিতি শব্দের অর্থ হলো 'আগন্তুক সুন্দরী নারী '। নেফারতিতি ছিলেন উওর সিরিয়ার রাজ্যের রাজকুমারী।


কর্তৃত্ব পরায়ণতা

১. প্রভাবশালী নারী : নেফারতিতি তাঁর স্বামী আখেনাটেনের সাহচর্যে থেকে মিশরের রাজনীতিও ধর্মীয় বিষয়ে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন।


২. শাসন পরিচালনা : নেফারতিতি তাঁর স্বামী আখেনাটেনের সহকারী শাসিকা হিসেবে ১৩৫৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৩৩৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত মিশরের শাসন পরিচালনা করেন ।


৩. নিজ কন্যার বিবাহ : পুএ সন্তানহীনরা নেফারতিতি ছয় কন্যার জননী ছিলেন ।



অন্তর্ধান রহস্য : নেফারতিতির স্বামীর রাজত্বকালের শেষ দিকের ইতিহাসে নেফারতিতির জীবিত ছিল কি মৃত ছিল পণ্ডিত বিভিন্ন অভিমত দিয়েছেন। 

১.নতুন নাম গ্রহণ : অনেকে মনে করেন যে এই অন্তধান পর্বে নেফারতিতি নেফার নেক্রটন নাম গ্রহণ করে তাঁর স্বামীর সহ শাসিকা হিসেবে প্রশাসন পরিচালনা করেন ।

২. সাধারণ জীবনযাপন : অন্তধান পরবর্তী বাকি জীবন নেফারতিতি উওর প্রাসাদে সাধারণ জীবন যাপন করেন ।


কৃতিত্ব : স্বামীর মৃত্যুর পর নেফারতিতি যে ফ্যারাও পদ লাভ করেছিলেন তা অধিকাংশ ঐতিহাসিক স্বীকার করেন। 

মিশরের সিংহাসনে বসে নেফারতিতি আখেতাতেন শহরের নির্মাণকার্যে গতি আনেন। 
শাসনব্যাবস্থা ও ধর্মীয় বিষয়ে তিনি বিভিন্ন যুগোপযোগী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন ।



ক্লিওপেট্রা


এই বংশের অন্যতম রাজকন্যা ছিলেন ক্লিওপেট্রা । যে কয়েকটি নারীর পরিচয় পাওয়া যায় তারা কিংবদন্তির পর্যায়ের উন্নতি হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মিশরের টলেমি বংশের শেষ শাসক সপ্তম ক্লিওপেট্রা ।


পরিচয়


১.সুন্দরী, শিক্ষিত ও বুদ্ধিদীপ্ত : দ্বাদশ টলেমির কন্যা ক্লিওপেট্রা ৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।


২.সীমাহীন দক্ষতা : ক্লিওপেট্রা তবে রাষ্ট্রনীতিতে তার দক্ষতা ও মাতৃভূমির প্রতি তার ভালোবাসা ছিল প্রশ্নাতীত ।


৩. সিংহাসন লাভ : এই মিশরের শাসনব্যবস্থার প্রচলিত কিছু রীতি ছিল অনেকেই মিশরে শাসন পরিচালনার কাজ করতে হয় । ১.প্রথম জীবনে ক্লিওপেট্রা তার পিতা দ্বাদশ টলেমির সহ-শাসক হিসেবে মিশরের শাসক পরিচালনা করেন। ২.ক্লিওপেট্রার বাবার মৃত্যুর পর মিশরের সিংহাসনে নিজের আধিপত্য সুনিশ্চিত করার জন্য তিনি তার চেয়ে বয়সে ৮ বছরের ছোটো ভাই এয়োদশ টলেমিকে বিবাহ করেন।


৪. রোমে আগমন : সিংহাসনে বসার পর ক্লিওপেট্রা তিন-চার বছরের মধ্যে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার ৪৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মিশর অভিযান করেন মিশরের রানী ক্লিওপেট্রা যুদ্ধে সিজারের কাছে পরাজিত হন এবং তার স্বামী তথা ভ্রাতা এয়োদশ টলেমির মৃত্যু হয়।


ক্লিওপেট্রা -জুলিয়াস সিজারের প্রণয় : ক্লিওপেট্রার অপরূপ সৌন্দর্য্যে ও রাজনৈতিক বিচক্ষনতায় মুগ্ধ হন সম্রাট জুলিয়াস সিজার। সম্রাট জুলিয়াস সিজার বিবাহিত হলেও তিনি ক্লিওপেট্রা রোমে অবস্থান করেই মিশরের শাষন পরিচালনা করতে থাকেন। এ সময় ব্রুটাস নামে এক আততায়ী কিছুদিনের মধ্যেই সিজারকে হত্যা করেন।


মিশরে প্রত্যাবর্তন


১.চতুর্দশ টয়লেমিকে বিবাহ : জুলিয়াস সিজার নিহত হলে ক্লিওপেট্রা রোম থেকে মিশরে ফিরে আসেন এবং তার অপরভাই চতুর্দশ টলেমিকে নামে মাত্র বিবাহ করে মিশরের শাসন ক্ষমতা নিজের হাতে নেন।


২.অ্যান্টনি-ক্লিওপেট্রা বিবাহ : সিজারের মৃত্যুর পর কয়েক বছর পর তার এই বন্ধু ও রোমান সেনাপতি মার্ক অ্যন্টনি মিশর অভিযান করেন।


অ্যাকটিয়ামের যুদ্ধ


১.অক্টাভিয়াসের ক্ষোভ : জুলিয়াস সিজারের পরবর্তী রোমান শাসক অক্টাভিয়াস অত্যন্ত ক্রধ হন এবং অ্যান্টনি ইতিপূর্বে অক্টাভিয়াসের বোন অক্টাভিয়া মাইরণ কে বিবাহ করেন।


২.মিশর আক্রমণ : মিশরকে আক্রমণ করেন ক্রুদ্ধ অক্টাভিয়াস। এবং তার পর মিশরে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠানে এগিয়ে আসেন।


আত্মহত্যা


১.মর্ম ঘাত : দেখা যায় একের পর এক ঘাত -প্রতিঘাত বিশ্বস্ত ক্লিওপেট্রার মন কাঁচের মতো ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।


২.আত্মহত্যা : ক্লিওপেট্রা মানসিক দিক দিয়ে এবং সব দিক দিয়ে ভেঙে পড়ে । তারপর মাত্র ৩৯ বছর বয়সে 'অ্যাসপ' নামে তীব্র বিষাক্ত সাপের কামড়ে আত্মহত্যা করেন ।


কৃতিত্ব


দেখা যায় যে ক্লিওপেট্রা তার রাজত্বকালে নানা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন । —-


১.প্রাচীন যুগের একজন নারী হলেও শাসন ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যে তিনি পুরুষদের বিরুদ্ধে শাসন লড়াই এ অবতীর্ণ হন ।

২.যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি অসীম সাহস ও বিরত্বের পরিচয় দেন।







ভারতের ইতিহাসে সুলতান রাজিয়া ও নুরজাহানের অবদান সংক্ষেপে লেখ?





ভূমিকা




জানা যায় ভারতের ইতিহাসে সুলতান রাজিয়া ও নুরজাহানের অবদান অপরিসীম। জানা যায় ইলতুৎমিসের কন্যা রাজিয়া দিল্লির সিংহাসনে বসেন এবং চার বছর রাজত্ব করেন (১২৩৬-১২৪০)। অন্যদিকে পারস্যের বাসিন্দা মির্জা গিয়াস বেগ ও আসমাৎ বেগমের কন্যা নূরজাহান প্রকৃত নাম মেহেরউন্নিসা ।





সুলতান রাজিয়ার অবদান




১.উদ্ভৃত সমস্যা ও তার সমাধান




সূলতান রাজিয়া সিংহাসনে বসার পর অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয় সেগুলি হল —

১.ব্লুকনউদ্দিনের প্রধানমন্ত্রীর মালিক মহম্মদ জুনাইড কৃতিত্ব রাজিয়ার সিংহাসনের বিরোধীতা।

২.কবির খান ইজুদ্দিন সালারি প্রমুখকে নিজের গোষ্ঠীতে নিয়ে আসা ।




২.প্রশাসনিক ও অন্যান্য দক্ষতা




সূলতান রাজিয়া শাসন পরিচালনার জন্য একটি নিজস্ব অনুগত গোষ্ঠী গড়ে তোলার উদ্দোগ নেন এবং আমলা ও প্রাদেশিক শাসকদের বিদ্রোহ দক্ষতার সঙ্গে দমন করেন।




৩.রাজনৈতিক পদক্ষেপ




রাজিয়া সিংহাসনে বসেই কেন্দ্রীয় শাসনকে সুদৃঢ় করার উদ্যেগ নেন। এজন্য তিনি তুর্কি অভিজাতদের নিয়ে গঠিত তুর্কান -ই-চাহেলগান 'বা চল্লিশের চক্র ভেঙ্গে দেন ।




৪. আলতুনিয়ার বিদ্রোহ




পাঞ্জাবের ভাতিন্ডার শাসনকর্তা আলতুনিয়া সুলতান রাজিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন । আলতুনিয়া এই অভিযানপ ইয়াকুৎ খা - কে নিহত করেন এবং রাজিয়াকে বন্দি করেন ।




৫.পরিণতি




বাহরাম শাহকে সিংহাসনে বসিয়ে রাজিয়ার বিরোধীতা বিভিন্ন উচ্চপদ গ্রহণ করলেও আলতুনিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পথ দেওয়া হয়নি। ফলে এর প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য আল তুনিয়া হয়ে উঠেছিল ।





নূরজাহানের অবদান





১.আলিকুলি বেগের সঙ্গে বিবাহ




আকবরের পুত্র সেলিম মোগল প্রাসাদ মেহেরউন্নিসাকে দেখে তাঁর অসামান্য রূপের ছটায় মুগ্ধ হয়ে পড়েন। সেলিম তখন মেহেরউন্নিসার প্রেমে আকুল হয়ে তাকে বিবাহ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এবং ১৭ বছরের মেহেরউন্নিসাকে সম্রাট আকবর বধমানের জায়গিদার আলিকূল বেগের সঙ্গে বিবাহ দেন।





২.জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিবাহ




১.আলিকুলি বেগকে হত্যা :- আকবর মেহেরউন্নিসাকে দিল্লি থেকে বহু দূরে বিবাহ দিয়ে তাকে সেলিমের চোখের আড়াল করার চেষ্টা করেন। ১৬০৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি মেহেরউন্নিসার স্বামী কে হত্যা করেন ।



২.বিবাহ :- ১৬১১ খ্রিস্টাব্দে বসন্তকালে জাহাঙ্গীর ও মেহেরউন্নিসার সাক্ষাত হয় এবং তার রূপের মোহে আবিষ্ট মেহেরউন্নিসাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। এবং ১৬১১ সালে ২৫ মে তাদের বিবাহ হয়। তখন সম্রাট জাহাঙ্গীর তার পত্নীর নতুন নাম রাখেন ' নূরজাহান ' যার অর্থ জগতের আলো ।





৩.নুরজাহান চক্র




১.গঠন :- জাহাঙ্গীরের আসুস্মতায় ও অন্ধ পত্নী প্রেমের সুযোগ উচ্চাকাঙ্ক্ষী নুরজাহান তার নিকটজনদের নিয়ে একটি গোষ্ঠী গড়ে তোলে। সেটি ' নূরজাহান চক্র ' নামে পরিচিত ।




২. রাজনৈতিক কৃতিত্ব :- জাহাঙ্গীর ক্রমে আমদ প্রমোদ মদ্যপান ও বিলাসিতায় ভাসিয়ে দিয়ে অসক্ত হয়ে পড়লে মোগল প্রশাসন ও রাজনীতিতে নুরজাহানের চক্রের কৃতিত্ব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় ।





৪.পরিণতি




১.খুররম -এর চক্রত্যাগ :- শেষ পর্যন্ত নুরজাহানের চক্র ভাঙ্গন ধরে ।




২.নুরজাহানের শেষ জীবন :- নূরজাহান খুররমের অধীনে গৃহবন্দী হয়ে বাকি জীবন কাটাতে বাধ্য হয়। ১৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে (১৭ Des) নূরজাহানের মৃত্যু হলে লাহোরের শাহাদারা বাগে জাহাঙ্গীরের কবরের পাশেই তাকে কবর দেওয়া হয়।





৫.কৃতিত্ব




নূরজাহানের প্রধান কৃতিত্ব গুলি হল —-




১.শাসন ক্ষমতা দখল :- নূরজাহান অতি সাধারণ অবস্থা থেকে মোগল ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হন ।




২.সুশাসন প্রবর্তন :- জাহাঙ্গীরের আমলে সাম্রাজ্যের অপশাসনের যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো তা নূরজাহানের নিজের যোগ্যতায় দূর করে দেশের সুশাসন প্রবর্তন করেন ।













৩.রানী দুর্গাবতীর কার্যাবলী লেখো?




ভূমিকা




ভারতের মোগল যুগে যে সকল শক্তির অস্তিত্ব ছিল সেগুলির মধ্যে গণ্ড আনা ছিল অন্যতম। গন্ডোয়ানা বেশ কয়েকটি রাজ্য নিয়ে গঠিত হয় সেগুলি হল দামো, মান্ডালা ও নর্মাদা উপত্যকা গঠিত হয়। আর এখানকার রানী দুর্গাবতী শাসন দক্ষতা ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় অসামান্য আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়েছিলেন। সেগুলি নিম্নে আলোচনা করা হলো —-----




পূর্ব পরিচয়




রানী দুর্গাবতীর পূর্ব পরিচয় সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। রাজপুত রাজা কিরাত -রাই-এর কন্যা দুর্গাবতী ছিলেন বুদ্ধিমতি।




১.বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশ




দলপথ সাহেব বীরত্বপূর্ণ কয়েকটি কাজে মুগ্ধ হয়ে দুর্গাবতী দল পথ শাহকে বিবাহ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু দুর্গাবতী তার পিতা দলপথ শাওর মতে একজন নিচু বংশজাত ছেলের সাথে বিবাহ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না ।




২.বিবাহ




দলপদ সাহেব বীরত্বের দুর্গাবতীর পিতা ও মুগ্ধ হন এবং বিবাহে সম্মত হন। কিছুদিন পর তার বাবার মৃত্যুর পর দলপথ শাহ গন্ড আনার সিংহাসনে বসেন এবং গন্ডোয়ানা রানী হন । তারপর তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। তার নাম ছিল বীরনারায়ন।





সিংহাসন লাভ




১.ক্ষমতা দখল




দল পথ শাহ হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় তার মৃত্যু হয়। এবং তাদের ছেলে বীরনারায়নের বয়স মাএ৫ বছর। নাবালক ছেলে সিংহাসনে বসেন এবং তার অভিভাবক হিসাবে রানী দুর্গাবতী গন্ডোয়ানার শাষন ক্ষমতা দখল করেন । (১৫৫০ খ্রি:) এবং ১৫৬৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসন পরিচালিত হয়।




২.শাসন কার্যে দক্ষতা




ভারত ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য নারী যিনি রাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসন পরিচালনায় যতেষ্ট যেগ্যতা ও স্বাধীনতা রক্ষার চেষ্টায় অসীম বীরত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন।





দক্ষ নেতৃত্ব




রানী দুর্গাবতী তার স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে রাজকার্যে মনোননিবেশ করেন । তার শাসন দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায় ।




১.আক্রমণ প্রতিরোধ




এই সময় আফগান নেতা রাজা বাহাদুর গন্ডয়ানা আক্রমণ করলে তিনি দক্ষতার সঙ্গে রাজা বাহাদূরের আক্রমণ প্রতিহত করেন ।




২.আর্থিক শক্তি বৃদ্ধি




তখন রাজকোষ পূর্ণ করতে রানী দুর্গাবতী ক্ষুদ্র জোতদারদের কাছ থেকে বল প্রয়োগ করে অর্থ আদায়ের নির্দেশ দেন ।





মোগল আক্রমণ ও দুর্গাবতীর পরাজয়




মোগল আক্রমণ ও দুর্গাবতীর পরাজয় সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। গন্ডোয়ানার বিপুল অর্থ-সম্পদ মুঘল সম্রাট আকবরকে প্রলুব্ধ করে । পূর্ব প্রদেশের মোগল সুবাদার আসক খা -র নেতৃত্বে গন্ডোয়ানার অভিযানে এক বিশাল বাহিনী পাঠান। ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে গন্ডোয়ানা আক্রমণ করে । তারপর রানী দুর্গাবতীর বিরুদ্ধে মোগল বাহিনী আক্রমণ করেন।




১.যুদ্ধ শুরু




রাজ্যর স্বাধীনতা রক্ষার জন্য রানী দুর্গাবতী মোগল বাহিনীকে প্রতিহত করে। কিন্তু দেখা যায় যুদ্ধের সময় প্রবল বৃষ্টির কারণে আন্দোকার নেমে আসে ফলে যুদ্ধবাহিনী বিশৃঙ্খল হয়ে যায় ।




২.আহত




যুদ্ধ চলাকালীন দেখা গিয়েছিল রানী দুর্গাবতীর পুত্র বীর নারায়ণ আহত হন এবং রানী তাকে নিরাপদ আশ্রয় করেছেন।




৩.ব্যর্থ পরিকল্পনা




যুদ্ধক্ষেত্রে রানী দুর্গাবতীর পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পৌঁছাতে গেলে একটি নদী অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু সেই নদীতে জল থাকতো না । কিন্তু হঠাৎ এই বৃষ্টির কারণে নদীতে জল হয় এবং এর ফলে নদী অতিক্রম করা সম্ভব ছিল না।




৪.মৃত্যুবরণ




দেখা যায় শত্রু সৈন্য এগিয়ে আসে দুর্গাবতী ওই দেখে সিদ্ধান্ত নেন। তাই দুর্গাবতী অপমানের হাত থেকে বাঁচতে মৃত্যুকে বেছে নেয়। নিজেকে ছুড়িরুদ্ধ করে প্রাণ ত্যাগ করে ।





গন্ডোয়ানার পরিনয়




১. ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দে নররাই যুদ্ধে দুর্গাবতী বাহিনী পরাজিত হয় সে সময় মোগলরা গন্ডোয়ানা দখল করে ।




২. গন্ডোয়ানার ভূখণ্ডে একাংশে মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।




৩.জানা যায় গন্ডোয়ানার শাসন পরিচালনা করতেন চন্দ্র শাহ মোগলদের হাতের পুতুল হিসাবে থাকতেন।





কৃতিত্ব




দেখা যায় গতির যে অসামান্য কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছিলেন তা এককথায় অতুলনীয় ।




১.দলপথ শাহের মৃত্যুর পর গন্ডেয়ানার চরম নিজ দেশের শাসন ক্ষমতা হতে নেন।




২.স্বাধীনতা রক্ষার চেষ্টায় রানী দুর্গাবতী যে অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দিয়ে নিজের জীবনে উৎসর্গ করেছেন এমন নজির ইতিহাসে খুব বেশি পাওয়া যায় না।










৫. প্রাচীন ভারতের নারী শিক্ষা সম্বন্ধে লেখ ?




ভূমিকা




প্রাচীন ভারতে নারী শিক্ষার অবদান অপরিসীম। বিভিন্ন যুগের সমাজে নারীর মর্যাদার হ্রাসবৃদ্ধি সত্বেও ভারতের নারীরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেয়েছিল ।






ঋক বৈদিক যুগে





১.নারীর গুরুত্ব




ঋগবৈদিক যুগে (১৫০০-১০০ খ্রিস্টপূর্ব ) পরিবারের অধিকাংশ সদস্য পুত্র সন্তান কামনা করলেও নারীরা মোটেই অবহেলিত ছিল না।




২.নারী শিক্ষা




জানা যায় এ যুগের নারীরা শিক্ষা গ্রহণের যথেষ্ট সুযোগ লাভ করেছিল । ধর্মচর্চা চারিত্রিক গঠন ইত্যাদির বিকাশ ঘটে । যেমন মমতা, ঘোষা, লোপামুদ্রা বিশাখা প্রমুখ বিষুষী নারীর কথা জানা যায় ।





পরবর্তী বৈদিক যুগে




১.নারীর মর্যাদা হ্রাস




জানা যায় নারীর মর্যাদা হ্রাস পায় এবং নারী বেদ পাঠের অধিকার হারায় ।




২.শিক্ষা গ্রহণে বঞ্চনা




নারীর শিক্ষা লাভের কোন প্রয়োজন নেই । তা সত্ত্বেও এই যুগে নারী শিক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়নি।





প্রতিবাদী আন্দোলনের যুগে




নারীরা এই যুগে সামরিক শিক্ষা ও গ্রহণ করত বলে জানা যায় । বৌদ্ধ গ্রন্থ বিনয়পিট কে নারীদের বিদ্যার জনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এ যুগের নারীরা সংস্কৃত কাব্য এবং নাটক ও রচনা করতেন বলে জানা যায়। চন্দনা, জয়ন্তী প্রমুখ এর যুগের উচ্চ শিক্ষিত নারী ছিলেন ।





মৌর্য যুগে এবং আগে ও পরে




এই যুগে অভিজাত নারীরা শিক্ষা লাভের যথেষ্ট সুযোগ পেতেন । অর্থশাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মৌর্য যুগে অভিজাত পরিবারের নারীরা শিক্ষিত হলেও তাদের মধ্য পর্দা প্রথার প্রচলন ছিল। মৌর্য যুগের শিক্ষিতা নারীরা রাজকার্যেও অংশ গ্রহণ করতেন ।





গুপ্তযুগে




এই গুপ্ত যুগে নারীদের সামাজিক মর্যাদা হ্রাস পেলেও ও তা তাদের শিক্ষা লাভের অধিকার কে কেড়ে নেননি। বাৎস্যায়ন তার কামসুত্রে গুপ্ত যুগের উচ্চ বংশজাত মহিলাদের শাস্ত্রচর্চা চৌষটি কালবিদ্যার অনুশীলনের উল্লেখ করেছেন। এযুগে নারীশিক্ষায় যা কিছু আগ্রগতি ঘটেছিলো তা সমাজের উচ্চস্তরেই সীমাবদ্ধ ছিলো। সাধারণ দরিদ্র নারীদের শিক্ষার সুযোগ যতেষ্ঠ সংকুচিতই ছিলো।





গুপ্ত -পরবর্তী যুগে




হর্ষবর্ধনের আমলে নারীরা নৃত্য, সংগীত, চিএকলা প্রভুতি ক্ষেত্রে শিক্ষা লাভ করতেন বলে জানা যায়। বানভট্ট বলেছেন, হর্ষবর্ধনের ভগিনী রাজশ্রী নৃত্য, সংগীত ও অন্যান্য কলার চর্চা করতেন। তবে এ যুগে তুকি আক্রমণে ও তার পরবর্তীকালে হিন্দু ধর্মের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নারী শিক্ষার বিষয়টি কিছুটা হলেও ব্যাহত হয়েছিল ।

























পিডিএফ লিঙ্ক নিচে 





✅ Go Home Now ✅




আমাদের টেলিগ্রাম ও ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হোন








-------------------------------------------------------------
File Name : একাদশ শ্রেণির ইতিহাস | ৬ষ্ঠ অধ্যায় সমাজের ঘটনাপ্রবাহ  | রচনাধর্মী

File Format : পিডিএফ

File Language : বাংলা

File Location : গুগল ড্রাইভ

Download Link :  একাদশ শ্রেণির ইতিহাস | ৬ষ্ঠ অধ্যায় সমাজের ঘটনাপ্রবাহ  | রচনাধর্মী
-------------------------------------------------------------
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url